দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

তীব্র গরমে খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি চরমে পৌঁছেছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১টায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এলাকায় সর্বমোট ২৩৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকাগুলোতে মোট ৮০৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মেলে ৫৬৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না মেলায় নগরী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

ওজোপাডিকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে সার্বিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম পাওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। খুলনা অঞ্চলের ৬২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৪৫৬ মেগাওয়াট। ফলে এই অঞ্চলে ঘাটতি বা লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬৯ মেগাওয়াটে। অন্যদিকে, বরিশাল অঞ্চলে ১৮১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১১১ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৭০ মেগাওয়াট।

গ্রাহকরা বলেন, দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, তার কোনো হিসাব নেই। ঘণ্টা মেপে মেপে লোডশেডিং চলায় এই ভ্যাপসা গরমে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছি। শহরেই ঘণ্টা পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে গ্রামগঞ্জের অবস্থা কী তা সহজেই বোঝা যায়। বিদ্যুতের অভাবে পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কোনো কাজই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।

জেলা ও এলাকাভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে খুলনা জেলা। এখানে একাই ৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল জেলা, যেখানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৪৬ মেগাওয়াট। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ২৩ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১৭ মেগাওয়াট এবং ঝিনাইদহে ১৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মধ্যে মাগুরায় ৮, ফরিদপুরে ৮, গোপালগঞ্জে ৭, চুয়াডাঙ্গা ও মাদারীপুরে ৬ মেগাওয়াট করে, পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে ৫ মেগাওয়াট করে, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে ৪ মেগাওয়াট করে, নড়াইল, শরীয়তপুর ও ভোলায় ৩ মেগাওয়াট করে, মেহেরপুর ও বোরহানউদ্দিনে ২ মেগাওয়াট করে এবং বাগেরহাট, ভেড়ামারা ও চরফ্যাশনে ১ মেগাওয়াট করে বিদ্যুতের ঘাটতি বা লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। হঠাৎ এমন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন